সহকর্মী দীপা ভৌমিকের সঙ্গে পরকীয়া ও অঢেল টাকার লোভেই রংপুরের বিশেষ পিপি আইনজীবী রথিশ চন্দ্র ভৌমিক বাবু সোনাকে হত্যা করা হয় বলে স্বীকারোক্তি জবানবন্দি দিয়েছেন প্রধান আসামি স্কুল শিক্ষক কামরুল ইসলাম। বৃহস্পতিবার (১২ এপ্রিল) গভীর রাত পর্যন্ত রংপুরের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আরিফা ইয়াসমিন মুক্তার খাস কামরায় ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন তিনি।
এর আগে ১০ দিনের রিমান্ডে কোতোয়ালি থানা পুলিশের কাছে ছিল হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী কামরুল। শনিবার (১৪ এপ্রিল) তার ১০ দিনের রিমান্ড শেষ হওয়ার আগেই বৃহস্পতিবার সে আদালতে স্বীকারোক্তি দিতে সম্মত হয়। এদিন রাত সোয়া ৯টার দিকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে পুলিশি পাহারায় আদালতের পেছনের গেট দিয়ে অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আরিফা ইয়াসমিনের আদালতে নিয়ে আসা হয়। পরে রাত পৌনে ১০টা থেকে রাত সোয়া ১টা পর্যন্ত কামরুলের জবানবন্দি নেওয়া হয়।
পুলিশের দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, কামরুল ইসলাম জবানবন্দিতে জানায়, সে রংপুর নগরীর তাজহাট উচ্চ বিদ্যালয়ে ২৫ বছর ধরে সহকারী শিক্ষক হিসেবে শিক্ষকতা করে আসছে। অন্যদিকে আইনজীবী রথীশের স্ত্রী দীপা ভৌমিকও একই স্কুলে শিক্ষকতা করেন। গত ৮ মাস আগে থেকে তাদের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। গত ৪ মাস আগে থেকে তারা দুজনে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু আইনজীবী রথিশ প্রভাবশালী হওয়ায় তারা তাকে হত্যা করার নিদ্ধান্ত নেয়।
কামরুল তার জবানবন্দিতে আরও জানান, তার (কামরুল) ধারণা ছিল রথিশকে হত্যার পর তারা দুজনে বিয়ে করবে এবং রথীশের বিশাল সম্পদ সে ভোগ করতে পারবে। এরই মধ্যে দীপার কাছ থেকে তিনি কয়েক দফায় প্রায় ৩০ লাখ টাকা নেন। এই টাকা দিয়ে নগরীর রাধাবল্লভ এলাকায় বাড়ি নির্মাণের কাজও শুরু করে তারা।
গত দুমাস আগে রথিশকে হত্যার পরিকল্পনা করেন কামরুল আর দীপা ভৌমিক। হত্যার পর লাশ কীভাবে সরাবে, কোথায় পুঁতে রাখবে, নিখোঁজ হবার ঘটনা কীভাবে প্রচার করবে সব পরিকল্পনা তারা করে।
সেই পরকল্পনা অনুযায়ী, দুমাস আগেই একই ধরনের আলমারি তৈরি করেন কামরুল। গত ২৯ মার্চ তারা রথিশকে হত্যার পরিকল্পনা করে। সেই অনুযায়ী ওইদিন রাত ১০টার দিকে বাসায় ফেরার পর রথিশকে রাতে খাবারের সঙ্গে ১০টি ঘুমের ট্যাবলেট খাইয়ে দেওয়া হয়। পরে সে অচেতন হয়ে পড়লে রাত ১২টার দিকে স্ত্রী দীপা ভৌমিক ও প্রেমিক কামরুল তার গলায় ওড়না পেচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। হত্যা করার পর রথীশের পরনের লুঙ্গি আর গেঞ্জি খুলে তাকে প্যান্ট শার্ট পরিয়ে আলমারিতে রেখে দেওয়া হয়।
পরদিন ভোরে কামরুল আলমারিটি ভ্যানে করে তার নিজের বাড়ি নগরীর তাজহাট মোল্লাবাড়ি এলাকার নির্মাণাধীন বাসায় আগে থেকে গর্ত করে রাখা জায়গায় পুঁতে রাখে।
পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী দীপা ভৌমিক ৩০ মার্চ সকালে সবাইকে জানায় তার স্বামী রথিশ বাসা থেকে বের হয়ে আর ফেরেনি। পরে ওই ঘটনার ৫ দিন পর র্যাব কামরুলের বাসা থেকে লাশ উদ্ধার করে। দীর্ঘ জবানবন্দি গ্রহণ শেষে রাত পৌনে ২টার দিকে কামরুলকে কারাগারে পাঠানো হয়। কোতোয়ালি থানার ওসি তদন্ত মুখতারুল ইসলাম এই তথ্য জানান।
             

News Page Below Ad