একে অপরকে ভালবেসে নীলফামারীর ডোমারের মুসলমান প্রেমিক হুমাউন ফরিদ লাইজুকে ধর্মান্তরিত হয়ে বিয়ে করেন হিন্দু প্রেমিকা নিপা রাণী রায়। এসময় লিপার নতুন নাম হয় হোসনে আরা। বিয়ের পর ভালই কাটছিলো লাইজু ও নিপা রানী ওরফে হোসনে আরার দিন। কিন্তু বাধঁসাধে নিপার পরিবার। নিপা অপ্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ায় লাইজুর বিরুদ্ধে অপহরণের মামলা করে পার পরিবার। এ মামলায় লাইজু নেয়া হয় কারাগারে। নিপাকে রাখা হয় নিরাপত্তা হেফাজতে। পরে নিপাকে বাড়িতে ফিরিয়ে নেয় তার পরিবার। লাইজুও জেল খেটে বের হন। কিছুদিন পর লাইজু বিষ খেয়ে মারা যান। নিপাও শোকে বিষপান করে আত্মহত্যা করেন। তবে, নিপা রানী ওরফে হোসনে আরার মরদেহ কে পাবে; আইনি এমন দ্বন্দ্বে সাড়ে তিন বছর ধরে হাসপাতালের মর্গে পড়ে আছে নিপা রানীর লাশ। ভালোবেসে ধর্মান্তরিত হয়ে বিয়ে করার কারণে মরদেহ নিয়ে এমন আইনি লড়ায়ে জড়িয়ে পড়েন ছেলে ও মেয়ের পরিবার। মামলাটি বিচারিক আদালত ঘুরে দীর্ঘদিন ধরে হাইকোর্টে বিচারাধীন। আদালতের নিষেধাজ্ঞার কারণে মরদেহ হস্তান্তর করতে পারেনি রংপুর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। সিনিয়র আইনজীবীরা বিষয়টিতে আইনের অমানবিক দিক উল্লেখ করে দ্রুত উচ্চ আদালতের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন।
এরপর লিপার মরদেহ দাবি করে আদালতে মামলা করে দুপক্ষই। এ মামলাটি নিম্ন আদালত ঘুরে বর্তমানে উচ্চ আদালতে দীর্ঘদিন ধরে বিচারাধীন রয়েছে । এতোদিনেও মামলা নিষ্পত্তি না হওয়ায় ২০১৪ সালের ১০ই মার্চ থেকে নিপার মরদেহটি হাসপাতালের মর্গেই পড়ে আছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বার বার চিঠি দিলেও টনক নড়েনি কর্তৃপক্ষের। এতদিন পর এখন দুপক্ষই বলছে,উচ্চ আদালত যাকে মরদেহ দিবে সেটাই নিবেন তারা। যদিও সাড়ে তিনবছরেও উচ্চ আদালতে মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তির কোন উদ্যোগ নেয়নি মামলার বাদী-বিবাদী। আইনি জটিলতা শেষে দ্রুত নিপার মরদেহের শেষকৃত্য সম্পন্ন হোক এমনটায় প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের। এলাকাবাসী জানায়, ডোমার উপজেলার বামুনিয়া ইউনিয়নের খামার বমুনিয়া গ্রামের অক্ষয় কুমার রায়ের মেয়ে নিপা রানী রায়। তার সাথে প্রেমের সর্ম্পক গড়ে উঠে ডোমার উপজেলার বোড়াগাড়ি ইউনিয়ন পূর্ব বোড়াগাড়ী গ্রামের জহুরুল ইসলামের ছেলে হুমাউন ফরিদ লাইজু ইসলামে(২২) সাথে। প্রেমিকের সঙ্গে নিপা পালিয়ে যায়। নিপা রানী রায় ধর্ম পরিবর্তন করে মোছাঃ হোসনে আরা ইসলাম নাম ধারণ করেন এবং নীলফামারী পাবলিক নোটারি ক্লাবের এভিডেভিটের মাধ্যমে দুই লাখ ১ হাজার ৫০১ টাকা দেনমোহরে হুমাউন ফরিদ লাইজু ইসলাম কে বিয়ে করে। এরপর তারা স্বামী স্ত্রী হিসাবে বসবাস করে আসছিল। এ অবস্থায় মেয়েটির পিতা অক্ষয় কুমার রায় বাদী হয়ে একটি অপহরণ মামলা আদালতে দায়ের করলে তারা স্বামী স্ত্রীর সকল কাগজপত্র সহ নীলফামারীর আদালতে হাজির হয়ে জবান বন্দি প্রদান করেন। ফলে আদালত সার্বিক বিবেচনায় অপহরন মামলা খারিজ করে দেয়। কিন্তু মামলার খারিজ আপিলে মেয়েটির পিতা তার মেয়েকে অপ্রাপ্ত বয়স্কো ও মস্তিস্কো বিকৃতি (পাগল) দাবি করে আদালতে কাগজ পত্র দাখিল করলে আদালত সেটি পরীক্ষার জন্য মেয়েটিকে রাজশাহী সেফ হোমে পাঠিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের নির্দেশ দেন। এ অবস্থায় চলতি বছরের ১৫ জানুয়ারী হুমায়ূন ফরিদ লাইজু ইসলাম বিষপান করে আত্মহত্যা করে। এরপর মেয়ের পিতা আদালতে আবেদন করে তার মেয়েকে জিম্মায় নিয়ে তাদের বাড়িতে রাখেন। তিনি লিপা কে তার পুত্রবধু দাবি করে বলেন তাকে পরিকল্পিতভাবে তার পিতা হত্যা করেছে।।

News Page Below Ad