শিবশঙ্কর পাত্র। বাড়ি কলকাতা। পেশায় চা বিক্রেতা। আর্জেন্টিনা দল ও লিওনেল মেসির ভীষণ ভক্ত এই মানুষটি। সেটা এতটাই যে তাঁকে নিয়ে প্রতিবেদন করেছে সিএনএন
এত দিন জেনেছেন ভারত ক্রিকেটপাগল জাতি। এবার জানুন এই ক্রিকেটপাগল জাতির মধ্যেও কিছু ফুটবলপাগল মানুষ রয়েছে। নির্দিষ্ট করে বললে মেসি-পাগল। ভারতের এই মেসি-পাগল মানুষটিকে নিয়েই প্রতিবেদন করেছে সিএনএন।

Pran upলোকটার নাম শিবশঙ্কর পাত্র। পেশায় একজন চা-বিক্রেতা। বাড়ি কলকাতায়। আর্জেন্টিনা ফুটবল দলের সমর্থক আর মেসিকে ভালোবাসেন হৃদয় নিংড়ে। আর তাই নিজের তিনতলা বাড়ি রং করেছেন আর্জেন্টিনার পতাকার রঙে। পুরো বাড়িটাই তিনি আকাশি-সাদা রঙে মুড়েছেন। আর দেয়ালজুড়ে মেসির ছবি।

কলকাতায় ফুটবলের প্রতি মানুষের টান নতুন কিছু নয়। এশিয়ার অন্যতম প্রাচীন ফুটবল ক্লাব মোহনবাগান এ শহরের। ফুটবলের প্রতি শিবশঙ্করের টান তাই স্বাভাবিক। বাংলাদেশের বেশির ভাগ আর্জেন্টিনা সমর্থকের মতো শিবশঙ্করও এই দলটিকে সমর্থন দিচ্ছেন ১৯৮৬ বিশ্বকাপ থেকে। আসলে ম্যারাডোনাকে দেখে। সেবার তো ম্যারাডোনার জাদুতেই বিশ্বকাপ জিতেছিল আর্জেন্টিনা।

শিবশঙ্করের বাড়ি। আর্জেন্টিনার পতাকার রঙে বাড়ি রং করিয়েছেন তিনি।
ম্যারাডোনার পর শিবশঙ্করের মন জিতেছেন মেসি। তাঁর খেলায় পূর্বসূরির ছাপ খুঁজে পান শিবশঙ্কর। ২০০৯ সালে মেসি যখন ভারতে গিয়েছিলেন, তখন তাঁর প্রতি ভালোবাসা থেকে আর্জেন্টিনার পতাকার রঙে বাড়ি রং করান শিবশঙ্কর। এরপর থেকে প্রতিবার বিশ্বকাপ শুরুর আগে একবার করে আকাশি-সাদা রঙে বাড়ি রং করেন শিবশঙ্কর।

মেসি অন্তঃপ্রাণ এই সমর্থক ৩০ বছর ধরে চা বিক্রি করছেন। আর্জেন্টিনা দলের প্রতি শিবশঙ্করের হৃদয় নিংড়ানো সমর্থনের জন্য তাঁর চায়ের দোকানকে ‘আর্জেন্টিনা দোকান’ নামে ডেকে থাকে এলাকাবাসী। দোকানে রয়েছে টিভি। দর্শকেরা ফুটবল ম্যাচ দেখার পাশাপাশি চায়ের কাপে ঝড় তোলেন তাঁর দোকানে। শিবশঙ্কর এ বছর রাশিয়া যেতে চেয়েছিলেন। এ জন্য কিছু টাকাও জমিয়েছিলেন। প্রায় ১ হাজার ডলারের মতো (প্রায় ৭০ হাজার ভারতীয় রুপি)। পরে জানতে পেরেছেন, এই টাকায় রাশিয়ায় মেসিদের খেলা দেখে ঘুরে আসা যাবে না।

শিবশঙ্করের চায়ের দোকান। স্থানীয় লোকজনের কাছে এই দোকান ‘আর্জেন্টিনা দোকান’ নামে খ্যাত।
শিবশঙ্কর তবুও আশা হারাননি। মেসিদের প্রতি ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে জমানো টাকায় তিনি আবারও বাড়ির রং করিয়েছেন। অবশ্যই আকাশি-সাদা। এখানেই শেষ নয়। ২৪ জুন মেসির জন্মদিন। শিবশঙ্করের জন্য অবশ্যই দিনটি বিশেষ কিছু। এ জন্য মনে মনে পরিকল্পনাও ফেঁদেছেন তিনি, ‘রং করানোর পর যে টাকা বেঁচেছে, ভাবছি তা দিয়ে মেসির জন্মদিনে উৎসব করব।

মেসির প্রতি শিবশঙ্করের এই অপরিমিত ভালোবাসাকে দারুণভাবে বুঝিয়েছেন তাঁর মেয়ে নেহা পাত্র, ‘আমার বাবার সিগারেট কিংবা মদ খাওয়ার নেশা নেই। মেসি-ই তাঁর নেশা।’

News Page Below Ad