অভাব অনটন পরিবারের নিত্যসঙ্গী। সচ্ছলতার আশায় চাকরির সন্ধান করছিল সেন্টু মিয়া। পুুলিশে চাকরির জন্য পাশের গ্রামের এক ৭ লাখ টাকার বিনিময়ে চাকরির আশ্বাস দেন সেন্টুকে। স্বপ্ন দেখতে থাকে সেন্টু মিয়া।
ঘুষের টাকা জোগাড় করতে সেন্টু অভিনব কৌশলের আশ্রয় নেন। পাশের সুতিপাড়া ইউনিয়নের বাথুলী গ্রামের মো. সবেদ আলীর মেয়ে হাজেরা বেগমকে বিয়ে করেন সাত লাখ টাকা যৌতুকের বিনিময়ে। চাকরিটা নিশ্চিত হয় সেন্টুর।
প্রশিক্ষণ শেষ করে বরিশাল জেলার পুলিশ লাইনে বকশি হিসেবে যোগদান করেন। মাস ৬ পর ঘরে স্ত্রীকে রেখে মালা নামের এক নারী কনস্টেবলের সঙ্গে নোটারি পাবলিক আদালতে অ্যাফিডেভিটের মাধ্যমে বিয়ে করেন। এর কিছুদিন পর সেন্টু মিয়া দ্বিতীয় স্ত্রী মালা আক্তারে বান্ধবী শেফালী ঘোষকে গোপনে তৃতীয় বারের মতো বিয়ে করেন।
শেফালির সঙ্গে যোগাযোগ কমিয়ে দিলে মালা আক্তারকে সঙ্গে নিয়ে শেফালি সেন্টু মিয়ার বাড়িতে এসে উপস্থিত হন। বাড়িতে এসে মালা জানতে পারেন বান্ধবী শেফালিকে বিয়ে করেছেন তিনি।
সেন্টুর প্রথম স্ত্রীও বুঝতে পারে সেন্টু চাকরিরত অবস্থায় দু’টি বিয়ে করেছেন। এ নিয়ে বাড়িতে হট্টগোল শুরু হয়। ঘটনাটি জানা জানি হলে এই এলাকায় চাঞ্চল্য দেখে দিয়েছে।
একপর্যায়ে সেন্টুকে নিয়ে টানাহেচড়া শুরু করে দেয় তার তিন স্ত্রী। এরপর তিনি ঘরের ভেতরে থাকা কীটনাশক পান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। হাসপাতালে নেওয়া হলে প্রাণে বাঁচেন। সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যান সেন্টু মিয়া।
প্রথম স্ত্রী জানান, ‘পুলিশের চাকরির জন্য সেন্টুকে আমার বাবা ৭ লাখ টাকা দিয়েছেন। সে আমার সঙ্গে প্রতারণা করেছে। তাকে উচিত শিক্ষা দেব আমি’।’
দ্বিতীয় স্ত্রী বলেন, ‘সরল বিশ্বাসে ওর বাড়িঘর ও বংশ পরিচয় না জেনেই ভালোবেসে বিয়ে করেছি। বিয়ের সময় ভুল পরিচয় দিয়েছে সে। এখন কি করবো বুঝতে পারছি না।’
সেন্টু মিয়া দাবি করেন, ‘মালা আক্তারের সঙ্গে আমার প্রেম হয়। এরপর সে আমাকে ফাঁদে ফেলে বিয়ে করেছে। আমি এখন ফেঁসে গেছি।’

News Page Below Ad