এ যেন তুঘলকি কাণ্ড। জীবিত মানুষকে বছরের পর বছর দেখানো হয়েছে মৃত। আদালতে দাখিল করা হয়েছে, তার মৃত্যু সনদও! যাকে নিয়ে এতো ঘটনা, তিনি নুরুজ্জামান শুভ। জাতীয় অন্ধ সংস্থার মহাসচিব খলিলুর হত্যা মামলার প্রধান সাক্ষী। আর নাটেরগুরু ময়মনসিংহের কতোয়ালী থানার এএসআই মোয়াজ্জেম হোসেন। তবে আদালতের যাচাই-বাছাইয়ে বেরিয়ে আসে আসল সত্য। ৭ বছর পর আজ আদালতে হাজির করা হয় সেই সাক্ষিকে। কথা বলেন, চ্যানেল টোয়েন্টিফোরে সাথে। এই ঘটনায় মোয়াজ্জেম হোসেনসহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে আগামী ৭ দিনের মধ্যে কারণ দর্শনোর নোটিশ দিয়েছেন দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক আবদুর রহমান সরদার।



২০১১ সালের প্রথম দিনের ঘটনা। রাজধানীর মিরপুরে খুন হন, জাতীয় অন্ধ সংস্থার মহাসচিব খলিলুর রহমান।

ঘটনার সাত বছরেও শেষ হয়নি, ওই হত্যা মামলার বিচারকাজ। মাঝে ডালপালা গজিয়েছে অনেক...জীবিত সাক্ষীকে বানানো হয়েছে মৃত...প্রশ্নবিদ্ধ পুলিশের তদন্তও।

ওই মামলার প্রধান সাক্ষী নিহত খলিলুর রহমানের ব্যক্তিগত সহকারী নুরুজ্জামান শুভ। ঘটনার পর থেকে এই একাধিক শুনানিতে তাকে হাজির করতে পারেননি বাদি পক্ষ। পরে সাক্ষীকে হাজিরে, সমন জারি করেন আদালত।

পরে সাক্ষীর ঠিকানা ময়মনসিংহের কতোয়ালী থানার এক এএসআই মোয়াজ্জেম...শুভর মৃত্যু সনদ জমা দেন আদালতে। কিন্তু সন্দেহ হয় আদালতের...নির্দেশ দেন নতুন তদন্তের। আর এতেই বেরিয়ে আসে থলের বিড়াল..শুভ মৃত নয়, জীবিত।

ভয়ে এতোদিন আদালতে কোনো শুনানিতে, মামলার প্রধান এই সাক্ষী হাজির না হলেও...নতুন তদন্তের সময় বাড়িতে তাকে পুলিশ খুঁজতে গেলে, সকালে আদালতে আসেন তিনি। এজলাসের বাইরে কথা হয় তার সাথে।

এমন অবস্থায় দায়ী ওই পুলিশ সদস্য ও কতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে আগামী ৭দিনের মধ্যে আদালতে হাজির হয়ে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে। চাঞ্চলকর ওই খুনের ঘটনায় ৮জন নিয়মিত আদালতে হাজিরা দিচ্ছেন...পলাতক রয়েছেন আরও দুজন।
সুত্র: নিউজ 24

News Page Below Ad