১৯৬৩ সালের ২৮ মে লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পুর উপজেলায় জন্মগ্রহন করেন "মোহাম্মাদ সহিদ ইসলাম পাপলু"।পিতার নাম মোহাম্মাদ নুরুল ইসলাম এবং মাতার নাম তহুরুন নেছা।পাচ ভাই ও দুই বোনের মধ্য তিনি পঞ্চম সন্তান।শিক্ষাজীবনে তিনি স্নাত্তোকোত্তর অর্জন করেন।
লক্ষীপুরের রায়পুরের বাসিন্দা হলেও এলাকায় তিনি ছিলেন অপরিচিত কিন্তু একজন অপরিচিত পাপলু কিভাবে বাংলাদেশের "আইনপ্রনেতা" পরিচয় লাভ করলেন তা আজকে জানা যাক।

কুয়েতে গিয়েছিলেন তিনি সাধারণ শ্রমিক হিসেবে এবং তিনি সেখানে গড়ে তুলেছিলেন এক বিশাল অর্থভান্ডার যার নাম দিয়েছিলেন "মারাফি কুয়েতিয়া কোম্পানি"।পরবর্তীতে "এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক" এর বড় আকারের শেয়ার কিনে মালিক হোন।

১৯৯৩ সালে কুয়েতে যান তিনি কুয়েতে গিয়ে একটি কোম্পানিতে কাজ শুরু করেন।পরে তিনি এক ভারতীয় বন্ধু কে নিয়ে একটি ক্লিনিং কোম্পানির ব্যবসা শুরু করেন।তার কোম্পানির জন্য দেশ থেকে জনবল নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করেন।মালিক আসা যাওয়ার ভাড়া দিলেও পাপুল বিদেশে আসা শ্রমিকদের কাছ থেকে জনপ্রতি আসা যাওয়ার ভাড়া নিতেন।কুয়েতে পাপলুর সেলিনা নামে একজন নামে একজন নারীর সাথে পরিচয় হয় সেখানে তাকে বিয়ে করে ব্যবসা শুরু করেন।সেলিনা ইসলাম ব্যাংক লোন নিয়ে সেই টাকা বন্ড দেখিয়ে সি আইপি হোন।

তথ্যসুত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালে প্রবাস ফেরত পাপুল লক্ষীপুরের রায়পুরে আসেন।রায়পুরের তৎকালীন আওয়ামীলিগের আহবায়ক জামসেদ কবির বাকি বিল্লাহর সাথে মিলে সাংবাদিকদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় অংশগ্রহন করেন।সেখানে তিনি রাজনীতিতে যোগ না দিয়ে মানবসেবায় নিজেকে নিয়োজিত রাখার শপথ নেন।পরবর্তীতে মসজিদ,স্কুল,লাইব্রেরি ইত্যাদি দাতব্য প্রতিষ্ঠানে স্থানীয় নেতাদের দিয়ে দান করিয়ে নিজেকে সবার মাঝে দানবীর ও ধনকুব হিসেবে পরিচয় করান।

একাদশ নির্বাচনে যখন পাপুল নমিনেশন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে দাড়ান তখন অভিযোগ ওঠে জাতীয় পার্টির তৎকালীন সাংসদ নোমান কে মোটা টাকা ঘুস খাইয়ে পদ লাভ করেন।তার কিছুদিন পরেই তার সহধর্মিনী সতন্ত্র কোটায় সংরক্ষিত নারী আসনে জয়ী হোন।

রায়পুর থেকে জামসেদ জানান যে, ২০১৭ সালে পাপুল কুয়েত আওমীলিগের সদস্য পদের দরখাস্ত করেন এবং ২০১৯ সালে রায়পুরে ৮ নং ওয়ার্ডে প্রথম পদ অর্জন করেন কিছুদিনের মধ্যই তার স্ত্রী এবং মেয়ে কে ২য় ও ৩য় পদ দেন।তার স্ত্রী কুমিল্লা আওয়ামীলিগের সহ সভাপতি থাকা সত্ত্বেও সংসদ সদস্য হওয়ার পর তার সে পদ ছেড়ে দিতে হয়।

রাজনীতিতে নতুন মুখ হওয়ার পরও কিভাবে পাপুল ২০১৮ নির্বাচনে আড়াইলাখ ভোট পান এবং অন্যদিকে বিরোধী প্রার্থী পান মাত্র ২৮ হাজারের উপরে।৫০ টি আসল ভাগাভাগির সময় যখন অতিরিক্ত একটি আসন পান তখন সেখানে তিনি তার স্ত্রী কে বসিয়ে দেন।

এক অদৃশ্য শক্তিতে জয় লাভ করার পরও আজকে তার বিপদে এগিয়ে আসেন নি কোন আওয়ামীলিগ নেতৃবৃন্দ।এক অচেনা পাপুল কে টেনে এনে আওয়ামীলীগ যেন নিজেই দ্বিধাগ্রস্ত।

অভিযোগে পাওয়া যায়, পাপুল নিজের নামে কিছুই করেন নি।আড়াল থেকে ক্লিনিং এবং সিকিউরিটি সেক্টরের নামে ২০ হাজার বাংলাদেশী কে বিদেশে পাচার করে প্রায় এক হাজার ৪০০ কোটি টাকা আয় করেছেন।তিনি এক অদৃশ্য গুপ্তচর হয়ে মানব পাচারের মত অপরাধ করে গেছেন অনেক দিন ধরেই।প্রশাসনের পিছনে অনেক টাকা ব্যয় করার কারনে পাপুল কে কেও ধরতে পারে নি।

এমনকি তিন কোটি টাকার জোরে তিনি দিগন্ত টিভির পরিচালকের পদ ছিনিয়ে নিয়েছেন তাও আবার নিজের নামে নয় শালিকার হিসাব মাধ্যম দেখিয়ে।কিছুদিন আগে কুয়েতের সংবাদমাধ্যম আল কাবাসের এক প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হয় পাপুলের আমেরিকায় অর্থ পাচারের কথা কিন্তু পাপুলই বরাবরই এসকল অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।মানব পাচার অভিযোগ বিষয়ে পাপুল একবার তার বক্তব্য তে বলছিলেন,"মানব পাচারতো নয়ই, জনশক্তি রপ্তানির সঙ্গেও কোনোভাবে জড়িত নই"

৮ জুন কুয়েত থেকে পাপুল গ্রেফতার হন মানব পাচার মামলায় এবং এর সাক্ষী হিসেবে পরের কুয়েতে নিযুক্ত রাষ্ট্রদুত এস এম আবুল কালাম পাপুলের গ্রেফতারের বিষয়ে স্বীকারোক্তি দেন।বর্তমানে মোহাম্মাদ শহিদুল ইসলাম পাপুল কুয়েতের জেলে রিমান্ডে আছেন।

News Page Below Ad