রাজাকারের তালিকা নিয়ে নানা সমালোচনা করে অনেকেই বলেছেন, যারা দেশের জন্য, মাতৃ ভাষার জন্য নিজের জীবনকে দান করে দিয়েছেন আজ তাদের নাম দেখতে হলো রাজাকারের খাতায়। এর থেকে লজ্জার বিষয় এ জাতির জন্য আর হতে পারে। এ সময়ে অনেকেই মন্ত্রীদের উপর অভিযোগ করে বলেছেন, এসব ব্যার্থতার দায় মন্ত্রী এবং মন্ত্রলায়ের। তবে এ বিষয়টি নিজের ফেইজবুকে তুলে ধরেছেন লেখক পীর হাবিবুর রহমান।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে শাসকদল আওয়ামী লীগ মহান মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব দিলেও টানা ১১ বছরের ক্ষমতায় এমন এক মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রী বানিয়েছে যিনি বহুল আলোচিত রাজাকারের তালিকা প্রকাশে নজিরবিহীন বিতর্ক ও স্তম্ভিত করা ইতিহাস বিকৃতি ঘটিয়েছেন। যে সরকার বা দল অতীতের শাসকদের বিরুদ্ধে ইতিহাস বিকৃতির অভিযোগ এনেছে বারবার, সেই দলীয় সরকারের মন্ত্রীর প্রকাশিত তালিকায় প্রকৃত শান্তি কমিটির অনেক সদস্য, রাজাকার, আলবদর, আলশামসসহ তাদের কর্মকাণ্ডের চিত্র দিতে ব্যর্থ হয়েছে। অন্যদিকে মুক্তিযুদ্ধের জাতীয় বীরদের, শহীদদের এমনকি প্রয়াত বীর ও সংগঠকদের তালিকায় নাম দিয়ে জাতির সঙ্গে চরম বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। এটা রাজাকার রক্ষার ষড়যন্ত্র নাকি সরকারবিরোধী গভীর চক্রান্তের অংশ? নাকি যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রশ্নবিদ্ধ করার বিতর্কের নতুন মডেল? এমন ব্যর্থ মন্ত্রী এমন বড় অপরাধের পরে মন্ত্রী থাকেন কীভাবে? স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও বলেছে, যাচাই-বাছাই ছাড়া তালিকা প্রকাশ ঠিক হয়নি। এমন অপরাধের জন্যও কি মন্ত্রীসহ কারও বিরুদ্বে ব্যবস্থাগ্রহণ হবে না? কেনো হবে না!

যারা দেশের জন্য এ দেশের মানুষের জন্য এতো কিছু করলো তার বিনিময়ে তারা এই বদনাম পেল। রাজাকারের তালিকায় নিজেরদের নাম দেখে অনেকেই মানসিক ভাবে ভেঙ্গে পড়েছেন। তারা বলছেন রাজাকারের তালিকায় নাম আসবে এটা কখনও ভাবেই। আমাদেরকে লাঞ্ছিত করার জন্য এমনটা করা হয়েছে।

News Page Below Ad